
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
নেই আধুনিক সেলুন, নেই সাজানো চেয়ার কিংবা আয়না-ঘেরা দোকান। দুইখানা ইটের ওপর বসেই মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৭৮ বছর বয়সী সুশীল শীল, সবার পরিচিত ‘কান্টু’। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন হাটবাজারে এভাবে বসে চুল কাটার প্রচলিত পদ্ধতিকে স্থানীয়ভাবে অনেকে বলেন ‘ইটালী সেলুন’। সময়ের সঙ্গে আধুনিক সেলুনের সংখ্যা বাড়লেও ঐতিহ্যবাহী এই পেশা আঁকড়ে ধরে আজও জীবিকা নির্বাহ করছেন কান্টু শীল।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রূপারামপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশীল শীলের জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে। তাঁর ভাষ্য, ১৯৮০ সালের দিকে অতিবৃষ্টিতে বিলডাকাতিয়া-সংলগ্ন এলাকা বারবার তলিয়ে যেত। জীবিকার তাগিদে একসময় সেই এলাকার মায়া ছেড়ে চুল কাটার কাজ শুরু করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে এ পেশায় যুক্ত তিনি।কান্টু শীল জানান, শুরুতে একটি সেভ করতে নিতেন ৫০ পয়সা, আর চুল কাটার মজুরি ছিল ১ টাকা ৫০ পয়সা। এখনো থুকড়া ও শাহপুরের হাটে বসে কাজ করেন। থুকড়া বাজারে শনিবার ও বুধবার এবং শাহপুর হাটে রবিবার ও বৃহস্পতিবার তাঁর কর্মস্থল বসে। প্রতি হাটে আয় হয় আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়েও চুল কাটেন তিনি।পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা কান্টু শীলের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। বয়সের ভার শরীরে পড়লেও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই কাজ করে যেতে হয় তাঁকে।দইখানা ইটই তাঁর চেয়ার, হাটের মাটিই তাঁর সেলুন। আধুনিকতার ভিড়ে ‘ইটালী সেলুন’ হয়তো সাদামাটা এক দৃশ্য, কিন্তু কান্টু শীলের কাছে সেটিই চার দশকের বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকার অবলম্বন—আর তাঁর জীবনসংগ্রামের এক জীবন্ত গল্প।
